সন্ধের সেই দমকা হাওয়ার পর রাতটা বেশ থমথমে হয়ে নামল। আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, মনে হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামবে। বড়দা ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে, রাস্তার যা অবস্থা আর যে পরিমাণ বৃষ্টি শুরু হয়েছে ওদিকে, আজ রাতে তার পক্ষে আর বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়।
বিশাল পুরোনো বাড়িটায় সন্ধের পর থেকেই এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। চারুদেবী রাতের রান্নার জোগাড় করতে রান্নাঘরে ঢুকেছেন। সুমন্ত নিজের ঘরে পড়ার টেবিলে বসে বই খুলেছিল বটে, কিন্তু মনটা কিছুতেই পড়াশোনায় বসছিল না। বারান্দার সেই আলো-আঁধারির মুহূর্তটা, চারুদিদির চোখের সেই মায়াবী চাউনি আর শাড়ির সুবাস যেন কিছুতেই তার মন থেকে সরছিল না। সম্পর্কে সে দেওর হতে পারে, কিন্তু চারুদিদির প্রতি তার মনে একটা গভীর শ্রদ্ধা আর অধিকারবোধ জড়িয়ে আছে, যা এই চার দিনে আরও গাঢ় হয়েছে।
রাত ৯টা নাগাদ বাইরে মস্ত একটা কড়কড় শব্দে বাজ পড়ল, আর তার পরপরই পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ চলে গেল। চারদিক নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে ডুবে গেল।
রান্নাঘর থেকে চারুদেবীর একটা মৃদু আর্তনাদ শোনা গেল, "ওরে বাবাগো!"
সুমন্ত এক মুহূর্তও দেরি না করে ফোনের টর্চটা জ্বেলে হনহন করে রান্নাঘরের দিকে ছুটে গেল। গিয়ে দেখল, অন্ধকারের মধ্যে চারুদিদি দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছেন, ভয়ে মুখটা কেমন শুকিয়ে গেছে। আসলে চারুদেবী বজ্রপাতের শব্দ বড্ড ভয় পান।
"ভয় নেই বৌদি, আমি আছি তো," সুমন্ত টর্চের আলোটা একদিকে ঘুরিয়ে রেখে চারুদেবীর একদম কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াল।
চারুদেবী সুমন্তকে এত কাছে দেখে যেন অনেকটা স্বস্তি পেলেন। তিনি সুমন্তর একটা হাত শক্ত করে ধরে ফেললেন। তাঁর হাত দুটো তখন কাঁপছিল। "বড্ড জোরে আওয়াজ হলো রে সুমন্ত! আমি তো ভেবেছি কী না কী হলো। তোর বড়দাও আজ ফিরবে না বলল।"
"বড়দা না থাকলে কী হয়েছে? আমি তো আছি," সুমন্ত আলতো করে চারুদেবীর কাঁধে হাত রাখল।
এই প্রথম সুমন্ত এত কাছ থেকে চারুদিদির নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিল। টর্চের আবছা আলোয় চারুদেবীর ভীত অথচ সুন্দর মুখাবয়বটা এক অন্যরকম মায়াবী রূপ ধারণ করেছিল। সুমন্তর হাতের স্পর্শে চারুদেবীও যেন কেমন এক আশ্চর্য শান্তিতে চোখ দুটো বুজে ফেললেন। ভয়ের মেঘ কেটে গিয়ে সেখানে এক গভীর আত্মিক নির্ভরতা দানা বাঁধছিল। দেওর আর বৌদির এই সম্পর্কের মধ্যে যে কতটা নিখাদ স্নেহ আর ব্যাকুলতা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা এই অন্ধকার রাতে দুজনের নীরবতাই বলে দিচ্ছিল।
কিছুক্ষণ ওভাবেই কাটার পর বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। বৃষ্টির ঠাণ্ডা হাওয়া রান্নাঘরের জানলা দিয়ে আসতেই চারুদেবী একটু শিউরে উঠলেন। সুমন্তর হাতের বাঁধনটা আর একটু শক্ত করে ধরে তিনি ফিসফিস করে বললেন, "চল, ঘরে চল। এখানে বড্ড হাওয়া দিচ্ছে।"
সুমন্ত টর্চটা হাতে নিয়ে চারুদেবীকে আগলে রেখে লিভিং রুমের দিকে নিয়ে এলো। সোফায় দুজনে পাশাপাশি বসলেন।
.
বাইরে বৃষ্টির বেগ আরও বাড়ল। ছাঁট এসে বারান্দার গ্রিল বেয়ে ঘরের কাঁচের জানলায় সশব্দে আছড়ে পড়ছে। লিভিং রুমের টেবিলে রাখা মোমবাতির আলোটা হাওয়ার দোলায় কাঁপছে, আর সেই সঙ্গে দেওয়ালে ওদের দুজনের ছায়াও যেন এক অদ্ভুত মায়াবী ছন্দে দুলছে।
সোফায় চারুদেবী আর সুমন্ত পাশাপাশি বসে। মাঝখানের দূরত্বটুকু যেন এই কয়েক ঘণ্টায় অনেকটাই কমে এসেছে। চারুদেবীর ভেজা চুলের দু-একটি গোছা তাঁর গাল ছুঁয়ে কাঁধের ওপর এসে পড়েছে। সুমন্ত আড়চোখে সেদিকে তাকিয়ে নিজের বুকের ভেতরের ধকপকানিটা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল। বড়দা নেই, মা-বাবা নেই— এই বিশাল বাড়িতে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের মাঝে ওরা দুজন যেন সম্পূর্ণ এক আলাদা পৃথিবীর বাসিন্দা।
"বৌদি, তোমার কি এখনও ভয় করছে?" সুমন্ত বেশ কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে একটুখানি এগিয়ে বসে জিজ্ঞেস করল। তার গলাটা সামান্য কেঁপে গেল।
চারুদেবী সুমন্তর দিকে ফিরলেন। মোমবাতির হলদেটে আলোয় তাঁর চোখ দুটি অন্য এক গল্প বলছিল। তিনি মৃদু হাসলেন, কিন্তু সেই হাসিতে চেনা অভিভাবকত্বের চেয়ে এক অদ্ভুত দ্বিধা আর ভালোলাগা মেশানো ছিল। "তোর পাশে থাকলে আর ভয় কীসের রে? কিন্তু মনটা কেমন যেন উচাটন করছে।"
"কেন?" সুমন্ত এবার আরও একধাপ সাহসী হলো। সে আলতো করে নিজের ডান হাতটা চারুদেবীর সোফার হাতলে রাখা হাতের ওপর রাখল।
চারুদেবী চমকে উঠলেন না, কিংবা হাতটা সরিয়েও নিলেন না। শুধু এক পলকের জন্য তাঁর চোখের পাতা দুটো কেঁপে উঠল। সুমন্তর হাতের উষ্ণতা তাঁর চামড়ায় এক তীব্র শিহরণ জাগিয়ে তুলল। তিনি শুধু একটু নিচু স্বরে বললেন, "কী করছিস, সুমন্ত? যদি কেউ দেখে ফেলে..."
"কে দেখবে বৌদি? এই ঝড়-বৃষ্টির রাতে আমরা ছাড়া আর কে আছে এখানে?" সুমন্তর কণ্ঠে এবার এক অন্যরকম গভীরতা। সে নিজের আঙুলগুলো চারুদেবীর নরম আঙুলের ফাঁকে গলিয়ে দিল।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই সংসারে চারুদেবী শুধু দায়িত্ব আর কর্তব্যই পালন করে এসেছেন। বড়দার ব্যস্ততা আর গাম্ভীর্যের আড়ালে তাঁর ভেতরের নারীমনটা যে কতটা একাকী, তা আজ এই তরতাজা যুবকের স্পর্শে যেন নতুন করে জেগে উঠল। সুমন্তর এই সাহসী পদক্ষেপ তাঁকে একদিকে যেমন শঙ্কিত করছিল, অন্যদিকে এক নিষিদ্ধ, তীব্র আকর্ষণে আচ্ছন্ন করে ফেলছিল।
সুমন্ত এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে আলতো টানে চারুদেবীকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। চারুদেবী বাধা দেওয়ার মৃদু চেষ্টা করলেন, কিন্তু সুমন্তর চওড়া বুকের ওমে এসে তাঁর সমস্ত প্রতিরোধ যেন মুহূর্তে গলে জল হয়ে গেল। সুমন্ত পরম যত্নে চারুদেবীর গালে হাত রেখে তাঁর মুখটা একটু তুলে ধরল।
"তুমি বড্ড সুন্দর, বৌদি। এত বছর ধরে আমি শুধু দূর থেকেই তোমাকে দেখে এসেছি," ফিসফিস করে বলল সুমন্ত।
চারুদেবীর ঠোঁট দুটো সামান্য কাঁপছিল। তিনি সুমন্তর চোখের দিকে তাকালেন, যেখানে উপচে পড়ছে এক অবাধ্য অধিকারবোধ আর ভালোবাসা। ঘরের ভেতরের বাতাস তখন ভারী হয়ে উঠেছে। বাইরে বজ্রপাতের তীব্র আলোয় এক মুহূর্তের জন্য ঘরটা ঝলসে উঠল, আর সেই আলোয় দেওর ও বৌদির দুটি ব্যাকুল মন সমস্ত সামাজিক দ্বিধার গণ্ডি পেরিয়ে এক অলিখিত, গভীর সম্পর্কের দিকে পা বাড়াল।
.
বাইরের ঝড় তখন আরও উন্মত্ত রূপ নিয়েছে। ঝমঝম শব্দে বৃষ্টি আছড়ে পড়ছে বন্ধ জানলার কাঁচে। ঘরের কোণে রাখা মোমবাতিটা গলতে গলতে একদম শেষ পর্যায়ে, তার মৃদু আলো-আঁধারির খেলায় চারদিকের পরিবেশ আরও নিবিড় ও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
সোফায় দুজনের শরীরের দূরত্ব তখন সম্পূর্ণ মুছে গেছে। চারুদেবীর উত্তপ্ত নিঃশ্বাস সুমন্তর গলার কাছে এসে লাগছিল। সুমন্তর চওড়া বুকের বলিষ্ঠ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে চারুদেবী যেন নিজের সবটুকু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছিলেন। এতদিন ধরে মনের গভীরে চেপে রাখা একাকীত্ব আর অতৃপ্তি আজ এক লহমায় বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো বেরিয়ে আসতে চাইল।
সুমন্ত এবার আরও বেশি মগ্ন হয়ে উঠল। তার একটা হাত আলতো করে চারুদেবীর পিঠের খোলা অংশে স্পর্শ করল। সুতির শাড়ির আঁচলটা কখন যেন কাঁধ থেকে সামান্য খসে পড়েছে। সুমন্তর হাতের গরম ছোঁয়া পিঠের চামড়ায় লাগতেই চারুদেবী মৃদু শিউরে উঠলেন এবং অবচেতনেই সুমন্তর কাঁধটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরলেন।
"সুমন্ত... এটা কি ঠিক হচ্ছে?" চারুদেবীর কণ্ঠস্বর তখন বুজে আসা, ভীরু আর ব্যাকুলতায় ভরা।
"কোনো কিছু ভাবো না, চারু..." এই প্রথম সুমন্ত তাকে ‘বৌদি’ না বলে নাম ধরে ডাকল। সেই ডাক চারুদেবীর কানে এক অদ্ভুত মন্ত্রের মতো শোনাল।
সুমন্ত মুখ নিচু করে চারুদেবীর কপালে, তারপর গালের সেই ঘামের বিন্দুগুলোতে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। চারুদেবী চোখ দুটো শক্ত করে বুজে ফেললেন। তাঁর সমস্ত শরীর এক অজানা শিহরণে কাঁপছিল। সুমন্তর আঙুলগুলো এবার তাঁর চুলের মস্ত খোঁপাটা আলতো করে খুলে দিল, আর সাথে সাথেই ঘন কালো চুলের রাশি পিঠের ওপর ছড়িয়ে পড়ল।
বাতাসে তখন বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ আর চারুদেবীর শরীরের চেনা সুবাস মিলেমিশে একাকার। সুমন্ত চারুদেবীকে কোলে তুলে নিয়ে ধীর পায়ে ভেতরের শোবার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। বিছানায় শোওয়ানোর পর চারুদেবী এক মুহূর্তের জন্য সুমন্তর হাতটা ধরে নিজের বুকের কাছে চেপে ধরলেন। তাঁর বুকের দ্রুত ওঠানামা স্পষ্ট বলে দিচ্ছিল ভেতরের তীব্র আলোড়নের কথা।
মোমবাতির শেষ আলোটুকু দপ করে নিভে যেতেই ঘরটা আবার ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে গেল। কিন্তু সেই অন্ধকারেও স্পর্শ আর অনুভূতির তীব্রতা কমল না। সুমন্ত চারুদেবীর একেবারে গা ঘেঁষে শুয়ে তাঁর ঠোঁটের ওপর নিজের ঠোঁট রাখল। দীর্ঘদিনের চেনা দেওর-বৌদির সম্পর্কের সামাজিক খোলসটা পুরোপুরি খসে গিয়ে সেই মেঘলা রাতে দুটি তৃষ্ণার্ত প্রাণ এক পরম আশ্লেষে পরস্পরকে সম্পূর্ণভাবে আবিষ্কার করতে লাগল।
.
জানলার বাইরে বৃষ্টির তীব্রতা তখন এক টানা ও গম্ভীর রূপ নিয়েছে। ঝড়ের শোঁশোঁ আওয়াজ আর ছাদের ওপর জলের অবিরাম শব্দ যেন এই চার দেওয়ালের ভেতরের নিস্তব্ধতাকে আরও গাঢ় করে তুলেছে। ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে কেবল দুজনের উত্তপ্ত ও দ্রুত নিঃশ্বাসের শব্দই এখন ঘরের একমাত্র ভাষা।
বিছানার নরম চাদরে চারুদেবী তখন সম্পূর্ণ সমর্পিত। সুমন্তর বলিষ্ঠ শরীরের ভার এবং তার বাহুবন্ধন চারুদেবীকে এক অবর্ণনীয় আবেশে জড়িয়ে ধরেছে। এতদিন ধরে যে দেওর-বৌদির সম্পর্কটা কেবল শুচিতা আর সামাজিক নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ ছিল, আজ এই মেঘলা রাতে তা এক তীব্র শারীরিক ও মানসিক ঘনিষ্ঠতায় রূপান্তরিত হলো।
সুমন্তর হাত দুটো পরম ব্যাকুলতায় চারুদেবীর শরীরের প্রতিটি ভাঁজ, তাঁর কোমরের মসৃণতা আর পিঠের উন্মুক্ত অংশ মেপে নিচ্ছিল। প্রতিটি স্পর্শে চারুদেবীর শরীর ধনুকের মতো বেঁকে উঠছিল, এক অজানা ও তীব্র শিহরণ তাঁর মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে যাচ্ছিল। সুমন্ত মুখ নামিয়ে চারুদেবীর গলায়, ঘাড়ের কাছে এবং কাঁধে নিজের ঠোঁটের গভীর ও উষ্ণ ছোঁয়া এঁকে দিতে লাগল। চারুদেবী দুই হাতে সুমন্তর পিঠের পেশীগুলো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে নিজের দিকে আরও নিবিড়ভাবে টেনে নিলেন।
"সুমন্ত..." চারুদেবীর মুখ থেকে কেবল একটা অস্ফুট শব্দ বেরিয়ে এলো, যা তীব্র ভালোলাগা আর আবেশে জড়ানো।
অন্ধকারের সেই নিবিড় মুহূর্তে সমস্ত দ্বিধা, সংকোচ আর সামাজিক নিয়মের দেয়াল পুরোপুরি ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল। সুমন্তর ওলটপালট করে দেওয়া আদরের ঝড়ে চারুদেবী নিজেকে সম্পূর্ণ ভাসিয়ে দিলেন। সুমন্তর ঠোঁট যখন পুনরায় চারুদেবীর ঠোঁট দুটোকে নিজের দখলে নিল, তখন দুজনের শরীরের উত্তাপ যেন এক পরম সীমায় পৌঁছাল। দুটি তৃষ্ণার্ত শরীরের এই মিলন কেবল জৈবিক চাহিদার ছিল না, এ যেন ছিল দীর্ঘদিনের জমানো একাকীত্ব, শূন্যতা আর অবদমিত ভালোবাসার এক চরম ও অনিবার্য বহিঃপ্রকাশ।
বাইরের ঠাণ্ডা হাওয়া ঘরের আবহাওয়াকে স্পর্শ করতে পারছিল না, কারণ ভেতরের পরিবেশ তখন দুজনের শরীরের অদম্য উত্তাপে তপ্ত। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই তীব্র ও গভীর শারীরিক ঘনিষ্ঠতার পর, যখন ঝড়ের বেগ কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলো, তখন দুজনেই শান্ত ও ক্লান্ত হয়ে পরস্পরের বুকে মাথা রেখে শুয়ে রইলেন। অন্ধকারের মাঝেই সুমন্ত চারুদেবীকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখল, আর চারুদেবী সেই চওড়া বুকের ওমে খুঁজে পেলেন এক অদ্ভুত, নিষিদ্ধ কিন্তু পরম শান্তির আশ্রয়।
.
বিছানার ওপর ছড়িয়ে থাকা অন্ধকারের তীব্রতা যেন আরও ঘন হয়ে এল। বাইরের বৃষ্টির একটানা শব্দ এখন এক মৃদু গুঞ্জনে পরিণত হয়েছে, কিন্তু ঘরের ভেতরের অবাধ্য উত্তাপ কমার কোনো লক্ষণ নেই। দীর্ঘক্ষণের তীব্র আলিঙ্গনের পর দুটি শরীর যেন একে অপরের প্রতি আরও বেশি তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠেছিল।
চারুদেবী তখন সমস্ত সামাজিক খোলস আর সংকোচ ঝেড়ে ফেলে এক সম্পূর্ণ নতুন রূপে সুমন্তর সামনে ধরা দিয়েছেন। সুমন্তর বলিষ্ঠ শরীরের প্রতিটি অংশ, তার পৌরুষের তীব্র আবেদন তাঁকে এক আদিম ও অমোঘ আকর্ষণে টেনে নিচ্ছিল। বিছানায় শুয়ে থাকা সুমন্তর ওপর চারুদেবী এবার আলতো করে ঝুঁকে পড়লেন। তাঁর মুক্ত চুলের রাশি সুমন্তর বুকে ও মুখে এসে আছড়ে পড়ল।
সুমন্ত মন্ত্রমুগ্ধের মতো চারুদেবীর এই সক্রিয়তা দেখতে লাগল। চারুদেবী ধীর পায়ে সুমন্তর শরীরের আরও নিচে নেমে এলেন। তাঁর ভেজা ঠোঁট আর উত্তপ্ত নিঃশ্বাস সুমন্তর পেটের ওপর এক তীব্র শিহরণ জাগিয়ে তুলল। সুমন্ত দুই হাতে বিছানার চাদরটা শক্ত করে চেপে ধরল, যখন সে বুঝতে পারল চারুদেবী কী করতে চলেছেন।
কোনো দ্বিধা না রেখে, চারুদেবী সুমন্তর পুরুষাঙ্গটি নিজের হাতের মুঠোয় নিলেন এবং অত্যন্ত যত্ন ও ব্যাকুলতায় তা নিজের মুখের ভেতর পুরে নিলেন। তাঁর ঠোঁট আর জিভের উষ্ণ ও ভেজা ছোঁয়া সুমন্তর পুরুষাঙ্গে লাগতেই সুমন্ত এক তীব্র ও অবর্ণনীয় সুখে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল। চারুদেবী ধীরে ধীরে, পরম আবেশে তা চুষতে লাগলেন। তাঁর মুখের ভেতরের মসৃণতা আর উষ্ণতা সুমন্তকে এক চরম উত্তেজনার শিখরে নিয়ে যাচ্ছিল।
"উহ্, বৌদি..." সুমন্তর গলা দিয়ে কেবল এক তৃপ্ত ও অবশ আর্তনাদ বেরিয়ে এল। সে নিজের হাত দুটো চারুদেবীর চুলে ডুবিয়ে দিল, তাঁর এই গভীর ও নিপুণ আদরকে আরও তীব্রভাবে অনুভব করার জন্য।
চারুদেবী নিজের সমস্ত ভালোবাসা আর অবদমিত আকাঙ্ক্ষা উজাড় করে দিয়ে সুমন্তর সেই অঙ্গটিকে নিজের মুখের ভেতরে ওলটপালট করতে লাগলেন। ঘরের শান্ত পরিবেশে তখন কেবল এক ভেজা, তীব্র ও মাদকতাময় শব্দ অনুরণিত হতে লাগল, যা দেওর আর বৌদির এই নিষিদ্ধ সম্পর্কের শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকে এক পরম ও চরম পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।
No comments:
Post a Comment